দার্শনিকতা কেবল মানুষের একচেটিয়া কারবার না। এই গাভীটিকে দেখো, এত ঘাস উপেক্ষা করে শ্রাবণের কালো মেঘের ছায়ায় বেলা দ্বিপ্রাহরে কী শান্ত আত্মসমাহিত দাঁড়িয়ে। এমন কী প্রাণীবিদের জাবরকাটার তত্ত্বকেও নস্যাৎ করে চোয়ালগুলাকে নিষ্কম্প রেখেছে। এমন স্থির আত্মসমাহিত গাভী দর্শন কি কম সৌভাগ্যের কথা?
মন, তুমি এই গাভীর মত হও না কেন? দর্শনের অমীমাংসিত জটিল রহস্য, পার্থিব জগতের অর্থ-সম্পদ-সম্পর্কের করুণ জটিলতা থেকে সরে এসে এই গাভীর মত বোধের বটবৃক্ষতলে দাঁড়াও না কেন? জগত নশ্বর, এতবড় কথা নাই বা বললে, কিন্তু জগত যে স্বার্থান্ধ এবং পরিবর্তনশীল - এ কথা তো এদ্দিনে বেশ বোঝা গেছে। মন আছে, জগত আছে, কিন্তু জগতকে মনের মত করে তোলার কোনো যন্ত্র তোমার আছে? নেই তো। রাতদিন দেখছ তো এদিক গড়তে গেলে ওদিক ভাঙে। তবে? সুখের আশায় বাঁচতে বাঁচতে, সুখের সংজ্ঞা বদলাতে বদলাতে, কম্প্রোমাইজ করতে করতে আয়ু তো তলানিতে এসে ঠেকেছে বাপধন আমার। এক হৃদিকমল রাখার পরিষ্কার ধোয়ামোছা জায়গাই নেই তো তার উপর ইষ্টের ধ্যান! বাদ দাও তো। মায়, নর্দমার পাঁক মাখা কুকুর এসেও বসবে না এমন নোংরা করে রেখেছ, তিনি এসে কোন মর্যাদায় বসেন বাপ আমার!
তাই বলি, মন এই গাভীর মত হও। শ্রাবণের মেঘের ছায়ায় দাঁড়িয়ে সে সময়কে, খাটালকে, মালিককে, এমনকি তার উপর ন্যাস্ত নানা ধর্মীয় উপাধিকে অবধি তুচ্ছ করে দাঁড়িয়ে তো আছে। তুমি কতক্ষণ পারো? উপাধি ছাড়তে পারো? মন চষতে পারো? মনের মধ্যে লাঙল চালিয়ে বীজ বুনতে পারো? মনের মধ্যে অন্তত একটা শীর্ণ খালে শান্তির জলের ব্যবস্থা না করে, সাত সমুদ্রের সামনে দাঁড়িয়ে থাকলে, এ ধরাধামের গভীরতম গুহায় সেঁধিয়ে বসে থাকলে, বিশ্বের সর্বশাস্ত্র তত্ত্ব কণ্ঠস্থ করলেই ছাড় পাবে ভাবছ?
মন চাষের জমি। অধ্যবসায় লাঙল। সময় হল গাভী। বীজ হল নাম। দাতা হল প্রেমিক গুরু। তুমি চাষী। চাষের সময় বয়ে যায় মন। গাভী হও। লহমায় বাঁচি মন, লোভে নয়।