আখড়ায় সেদিন ভীষণ ভিড়। এ আখড়া গোঁসাইয়ের নিজের নয়। গোঁসাইয়ের গুরুভাইয়ের। গোঁসাই আমন্ত্রিত। গুরুভাই বয়সে কনিষ্ঠ। ভীষণ যত্ন করে গোঁসাইকে সাজিয়েছে। চেয়ারে বসিয়েছে। ভক্তেরা পায়ের কাছে ফুল সাজিয়েছে।
আমাকে দেখতে পেয়েই গোঁসাই ফিক করে হাসল। ইশারায় কাছে ডাকল। গেলাম। গোঁসাই ফিকফিক করে হেসেই যাচ্ছে। তারপর আমার কানের কাছে মুখ এনে বলল, একটা কথা ভেবে দেখেছ, তিনি যখন মানুষ হয়ে আসেন, তখন কী অনায়াসে কত অযত্ন, দুর্ভাগ্যকে নিয়ে অতিসাধারণ হয়ে যান। কেউ গোয়ালা হল, ব্যাধের বিষে প্রাণ দিল, কেউ বনবাসে কাটালো, কেউ রাজার ছেলে হয়ে ভিখারি হল, ক্রুশবিদ্ধ হল বিনা অপরাধে, পণ্ডিত হয়ে রাস্তায় রাস্তায় নামে গানে ভিক্ষা করে কাটালো। আর মানুষ যখন ভগবান হতে চায় তখন সে কত বুজরুকি দেখিয়ে, কথার কৌশলে কেউকেটা সেজে বসে.. যেমন আমায় দেখছ না?
গোঁসাই আবার হাসতে শুরু করল।
আমি বললাম ঢং যত। আপনি সে চেষ্টা কবে করলেন?
গোঁসাই গম্ভীর হল। চোখের কোণায় জল এলো তার। বলল, মহাপ্রভু কী হতে বলেছেন বলো তো, নিজেকে নিয়ে বলেছেন হে কৃষ্ণ তুমি আমাকে তোমার চরণের ধুলো সদৃশ মনে করো…..আমি যেন সেই ধুলোর ধুলো হতে পারি….ঝড়ের ধুলো হয়ে লোকের চোখে ঢুকে তাকে অন্ধ না করি….তুমি এই আশীর্বাদ আমায় করো…..
গোঁসাইয়ের গলা ধরে এলো। আমার অবস্থা আরো খারাপ। আমি বললাম, তুমি কি পাগল হলে…..আমি করব তোমায়…..
কথা শেষ হল করতে পারলাম কই। দুটো চোখে সব ঝাপসা।