Skip to main content

ঝড়

এই তো আবার ঝড় আসবে। সমস্ত ধাতব তারের বিদ্যুৎ সংযোগ ছিন্ন হবে দুর্ঘটনা এড়াতে। ঘরের মধ্যে গুটি গুটি পায়ে হাঁটু মুড়ে বসবে আদিমযুগের গুহার অন্ধকার। আমরা তাড়াহুড়ো করে মোমবাতি, হ্যারিকেন, লম্ফ জোগাড় করে যতটা পারি আলো জ্বালাব। মোবাইলের চার্জ বুঝেশুনে খরচ করব, যদি আজ কারেন্ট না আসে! তখনও বাইরে ঝড়। ছাদে ওঠা যাবে না, যদি কোনো উড়ন্ত টিনের চালা বা গাছের ডাল উড়ে আসে। বৃষ্টিও শুরু হল যে! বৃষ্টির ছাঁটে, হঠাৎ ঠাণ্ডা হাওয়ায় শরীর খারাপের ভয়। ঝড়ের আঘাতে ঘরে ঢুকে পড়া কিছু বিশ্রী পোকা উড়ে বেড়াচ্ছে তখন মোমবাতির শিখা ঘিরে ঘিরে। ওরা জংলী। ওরা বিষাক্ত। ওরা অভদ্র আদিম। জলের গ্লাসে, চায়ের কাপে, ভাতের থালায় যখন তখন পড়ে যেতে পারে। খুব সাবধান। খুব সতর্ক থাকার সময়। ঘরের ভিতর আলোর চেয়ে অন্ধকারের অনুপাত বেশি। ইনভার্টার বন্ধ থাক, বাজ পড়ছে না!

লালি ঘোষের সংসার

 

লালি ঘোষ, শান্ত মানুষ। রাতে ঘুম আসছে না বলে রাস্তায় পায়চারি করতে করতে পার্কের বেঞ্চে এসে বসেছে। নতুন কথা কিছু না, রোজই বসে। আজ বসেছে কারণ প্রচণ্ড পেট জ্বালা করছে। পাঁঠা হজম হচ্ছে না। কিন্তু পেট

এখনই... এমনিই

গুরু বেণারস যাওয়ার টিকিট কেটে, খাটে বসে, পা দুলিয়ে দুলিয়ে, দেওয়ালের দিকে তাকিয়ে তাকিয়ে মুড়ি চিবাচ্ছিলেন।

ডুব

ট্রেনের মাথাটা দেখা যাচ্ছে। সিগন্যাল লাল। স্টেশানে লোক নেই। দাঁড়াবার কথা নয় ট্রেনটার। পূর্ণিমার চাঁদ। রেললাইনের উপর আমগাছের ছায়া। বোলের গন্ধ নেশার মত।

অন্তরে আর বাহিরে তাই..

রাধাকান্তবাবুর বহুদিনের অভ্যাস, ঘুম থেকে উঠে কখনও হাতে তালি দিয়ে, কখনও খোল বাজিয়ে, খঞ্জনি বাজিয়ে রামনাম করেন। কখনও "প্রেম মুদিত মন সে কহো রাম রাম রাম, শ্রীরাম রাম রাম"....কখনও "শ্রীরামচন্দ্র কৃপালু ভজ মন".. এইসব ভজন গান। বাড়ির লোক, পাড়াপ্রতিবেশী সকলে তার সরল প্রাণের ভক্তিতে আবিষ্ট হয়ে, সাধু সাধু বলেন। 

অনবগুন্ঠিতা

হাতটা ঘামছে। বাজারের ব্যাগের জন্যেই ঘামছে। সারাটা শরীরও অল্প অল্প ঘেমে। মাঝে মাঝে মনে হয় জাহাজের মাস্তুল ধরে একাই দাঁড়িয়ে আছি আমি। জাহাজ পাড়ে ভিড়বার অপেক্ষায়, নইলে ডুবে যাওয়ার। জাহাজ যে কোনো পাড়েই ভিড়ুক না কেন আমার কিছুতেই কিছু এসে যায় না। সব পাড়ই সমান এখন আমার কাছে, কোনো পাড়েই কেউ নেই।

কামড়

রাস্তায় জল জমেছে। এতটা জল যে সাইকেলের অর্ধেক টায়ার জলের নীচে চলে যাচ্ছে।

      অনুপের নতুন সাইকেল। চেনটা শক্ত। টান লাগছে। কিন্তু ভালো লাগছে। সব মিলিয়ে ভালো লাগাটাকে ভয়ও লাগছে। একটু পরেই সন্ধ্যে। বিদিশা কই তখন?

মাটির গুলি

রোগা ছিপছিপে শরীর। প্যান্ট আর জামা অতিব্যবহারের সীমারেখা পেরিয়ে গেছে। বয়েস দেখে মনে হবে সদ্য হয় তো পঞ্চাশ পেরিয়েছে। মুখে শুনলাম, বয়েস তেষট্টি। "আমি এই তেষট্টি বছর এই মাঠে আসছি... এমন সাপ দেখিনি আগে।"

বুবুন আর খোলা ফ্রিজ

বুবুন ওই জন্যেই তো রাত্রে ফ্রিজ খোলে না। কতবার বাবাকে, মাকে, রান্নার পিসিকে, বন্ধুদের বলতে চেয়েছে, কেউ বিশ্বাস করেনি। ভাবে ফোরে পড়ে, তাই বানিয়ে বানিয়ে মিছিমিছি বলে।

সেই চোখ দেখব বলে

সন্ধ্যাবেলায় একটা নৈর্ব্যক্তিক শুষ্কতা ঘিরে থাকে। হাস্পাতালের বাইরে পুকুরটার দিকে তাকিয়ে আমার সারাদিনের হিসাব। পুকুরের জলের রঙ এত বদলে বদলে যায় আগে জানতাম কই?

Subscribe to অনুগল্প